ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে কুরাসাও ও আইভরি কোস্ট। দুই দলের সামনে সমীকরণ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই, নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করা। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে আইভরি কোস্টের জন্য একটি ড্রই যথেষ্ট। আর কুরাসাওকে ইতিহাস গড়তে হলে জিততেই হবে।
টুর্নামেন্টের শুরুতে ইকুয়েডরকে ১–০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছিল আইভরি কোস্ট। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ২–১ ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। তবু পরিস্থিতি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে হার এড়াতে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হবে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।
ইতিহাসও ডাকছে আইভরি কোস্টকে। বিশ্বকাপে এর আগে কখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি তারা। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের এক আসরে কখনো দুটি ম্যাচও জেতা হয়নি তাদের। তাই এই ম্যাচটি তাদের জন্য নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ।
আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগও বেশ আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের খেলা ১১ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই গোল করেছে দলটি। যা অন্তত তিনটি ম্যাচ খেলা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা রেকর্ড। তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে ইতোমধ্যে নজর কেড়েছেন। প্রথম দুই ম্যাচে তার আটটি সফল ড্রিবল বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান ফুটবলারের প্রথম দুই ম্যাচে যৌথ সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে কুরাসাওয়ের গল্পটা সংগ্রাম আর চমকের। প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭–১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর অনেকেই তাদের সম্ভাবনা শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে ডিক অ্যাডভোকাটের দল।
সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক এলয় রুম। তিনি একাই ১৫টি সেভ করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত সময়ে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড গড়েছেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সই কুরাসাওকে এনে দেয় বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট।
এবার কুরাসাওয়ের সামনে আরও বড় সুযোগ। ফিফা র্যা ঙ্কিংয়ে ৮৩তম স্থানে থাকা দলটি নকআউট পর্বে উঠতে পারলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে গ্রুপ পর্ব পেরোনো সর্বনিম্ন র্যা ঙ্কিংধারী দলগুলোর একটি হয়ে যাবে। ফলে তাদের জন্য এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাস গড়ার মঞ্চ।
আক্রমণে কুরাসাওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা তাহিথ চং। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড উইঙ্গার ইতোমধ্যে গ্রুপ ‘ই’-তে সর্বোচ্চ ৯টি সফল ড্রিবল করেছেন। জুনিনহো বাকুনার সঙ্গে তার জুটি আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
দুই দলের মধ্যে এটি হবে ইতিহাসের প্রথম সাক্ষাৎ। একই সঙ্গে কোনো কনকাকফ দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে এটিই আইভরি কোস্টের প্রথম ম্যাচ। পরিসংখ্যান, অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের বিচারে আইভরি কোস্ট স্পষ্ট ফেবারিট হলেও কুরাসাও ইতোমধ্যে দেখিয়েছে, তাদের অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। তাই নকআউটের টিকিট আর ইতিহাস গড়ার স্বপ্নকে সামনে রেখে জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
সম্ভাব্য একাদশ
আইভরি কোস্ট : ইয়াহিয়া ফোফানা, গুয়েলা দুয়ে, উইলফ্রিড সিঙ্গো, এভান এনডিকা, ক্রিস্টোফার ওপেরি, সেকো ফোফানা, ফ্রাঙ্ক কেসি, ইব্রাহিম সাঙ্গারে, আমাদ দিয়ালো, ইয়ান দিয়োমান্দে, সিমোঁ আদিংরা।
কুরাসাও : এলয় রুম, জুরিয়েন গারি, রোশন ভ্যান আইজমা, আরমান্দো ওবিসপো, শেরেল ফ্লোরানুস, লিয়ান্দ্রো বাকুনা, জুনিনহো বাকুনা, তাহিথ চং, গডফ্রিড রোমেরাতোয়ে, সোন্টজে হ্যানসেন, জার্গেন লোকাদিয়া।