জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ভারত। কিন্তু মাঠের সেই জয়ের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমে। সতীর্থ রিংকু সিংয়ের বাবার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দলে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের ব্যাটার রিংকু সিংয়ের বাবা খানচাঁদ সিং মারা গেছেন। তিনি ক্যানসারের চতুর্থ ধাপে ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাবার শারীরিক অবস্থা খারাপ শুনে মাঝপথে দল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছিলেন রিংকু সিং। জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে তিনি আবারও দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। তবে একাদশে তাঁর জায়গা হয়নি, রিংকুর বদলে খেলেছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। যদিও বদলি ফিল্ডার হিসেবে তাঁকে মাঠে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই বাবার চিরবিদায়ের খবর শুনতে হলো এই ক্রিকেটারকে।
রিংকু সিংয়ের আজকের এই সাফল্যের পেছনে তাঁর বাবার সংগ্রাম ছিল রূপকথার মতো। আলীগড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারির কাজ করতেন খানচাঁদ সিং। অভাবের সংসারে অনেক কষ্ট করেও ছেলেকে বড় ক্রিকেটার বানানোর স্বপ্ন বিসর্জন দেননি তিনি। বাবার সেই ত্যাগের প্রতিদান দিয়েই আজ ভারতের জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন রিংকু।
রিংকুর বাবার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘রিংকু সিংয়ের বাবার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার মাঝে এমন সংবাদ শোনা পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন এবং পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দিন।’
এবারের বিশ্বকাপে রিংকু সিং খুব একটা ছন্দে নেই। ৫ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২৪ রান। বড় স্কোর করতে না পারায় গত ম্যাচে তাঁকে বাদ দিয়ে সাঞ্জু স্যামসনকে নামায় ভারত। এর মাঝে বাবার মৃত্যু রিংকুর জন্য এক বড় মানসিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়ালো।