হরমুজ প্রণালি বন্ধের মধ্যেই ওপেকের তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত

তেল সরবরাহে নানামুখী প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও টানা চতুর্থ মাসের মতো খনিজ তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস। আজ রোববার (৭ জুন) জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর রয়টার্সের। 

ইউএস-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যা বিশ্ববাজারে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে সৌদি আরবসহ ওপেকের শীর্ষ সদস্য দেশগুলো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ তেল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর মাঝেই দীর্ঘ ৬০ বছর পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগ করলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

বর্তমানে রাশিয়া ও সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের প্রধান ৭টি দেশ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল করে তেলের উৎপাদন কোটা বৃদ্ধি করেছে।

কাগজে-কলমে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও ওপেকের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি হ্রাসের কারণে মূলত তেলের সামগ্রিক উৎপাদন অনেকটাই ধসে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ব্যারেল, সেখানে এপ্রিলে তা নেমে এসেছে গড়ে ৩৩ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ব্যারেলে।

ওপেকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জোটের ৭টি সদস্য দেশ আগামী জুলাই মাস থেকে দৈনিক আরও ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বৃদ্ধির পরিমাণ জুন মাসের সমান, যা মূলত আরব আমিরাতের জোট ত্যাগের বিষয়টি মাথায় রেখে মে ও এপ্রিলের (দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল) তুলনায় কিছুটা কমিয়ে সমন্বয় করা হয়েছিল।

জ্বালানি বিশ্লেষক ও ওপেকের সাবেক কর্মকর্তা হোর্হে লিওন এই বিষয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা পর্যন্ত ওপেক প্লাসের এই উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বাস্তব কার্যকারিতা খুবই সামান্য। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে গেলে বাজার খুব দ্রুতই তেলের ঘাটতির শঙ্কা কাটিয়ে উল্টো উদ্বৃত্তের আশঙ্কায় রূপ নিতে পারে।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ৭২ ডলার ছিল। যুদ্ধ শুরুর পরপরই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায় তেলের দাম। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা কমে আসায় তেল ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফেরে। গত শুক্রবার (৫ জুন) তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৩ ডলারে নেমে আসে।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, আমিরাতের ওপেকের সদস্যপদ ত্যাগের বিষয়টি আমলে নিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকে এই সাতটি দেশের মূল কোটার আরও প্রায় ৫ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। যদি ওপেক প্লাস আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল করে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখে, তবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ২০২৩ সালের সেই হ্রাসকৃত কোটা পুরোপুরি সমন্বয় হয়ে যাবে।

রোববারের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ওপেক প্লাসের ২১টি সদস্য দেশের মধ্যে কেবল ৭টি দেশ অংশ নেয়। দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও ওমান। 

একই দিনে অনুষ্ঠিত ওপেক প্লাসের অপর একটি পৃথক বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত জোটের সাধারণ তেল উৎপাদন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বর্তমানে জোটটি ২০২৭ সালের তেল উৎপাদনের ভিত্তি (বেসলাইন) নির্ধারণের জন্য সদস্যদের উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনা করছে, যা কোটা নির্ধারণে ব্যবহৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *