ঈদে জরুরি সেবায় নিয়োজিত থাকা অনেকেই ঢাকা ছাড়ছেন আজ

জরুরি সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে অনেকেই পরিবারকে ছাড়াই ঈদ করেছেন। এবার ধীরে ধীরে তারা ফিরছেন প্রিয়জনের কাছে।

আজ শনিবার (৩০ মে) ঈদের তৃতীয় দিনে রাজধানীর কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও সদরঘাট টার্মিনালে ঘুরে দেখা যায়, আজ যারা ঢাকা ছাড়ছেন তাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন যারা ঈদে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

যারা জরুরি সেবায় নিয়োজিত তাদের অনেকেই ঈদের দিন বা পরদিন ছুটি পাননি। আবার দীর্ঘ যানজট ও ট্রেনের টিকিটের অসম লড়াই এড়াতে অনেকে ঈদের দুই-তিনদিন পর গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ডা. সোবাহান মুনিফ বলেন, ঈদে ছুটি ছিল না। সবাই ছুটি কাটালে রোগী দেখবে কে? দায়িত্ব পালন করবে কে? দিনভর রোগীকে সেবা দিয়ে ভালো কেটেছে ঈদ। সেবাই আমার অন্য রকম ঈদ। এটা কেবল একজন চিকিৎসকই বুঝে। 

তিনি বলেন, এখন ছুটি পেয়েছি। গ্রামে বাবা-মা রয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে যাচ্ছি গ্রামে, সঙ্গে পরিবারও যাচ্ছে। কষ্ট ছাড়াই যশোরের একটি বাসের টিকিট পেয়েছি। 

কমলাপুরে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ঈদে ছুটি পাইনি। সময় ভালো কেটেছে, তবে পরিবারকে খুব মিস করেছি। ট্রেনে এখন যাচ্ছি গ্রামে। খুব সহজেই টিকিট পেয়েছি। তেমন কষ্ট করতে হয়নি। আধা ঘণ্টার মধ্যে ট্রেন ছাড়বে। এখন ভাবছি কত তাড়াতাড়ি যাব গ্রামে। অধীর অপেক্ষায় পথের দিকে চেয়ে আছে মা। একটু আগেও কথা হয়েছে। মা বলছে তুই তাড়াতাড়ি আয়।    

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ গাবতলী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী সমাগম আছে, তবে নেই দীর্ঘ যানজট। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের চাপ আগের তুলনায় কম। সিট পেতে তেমন ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে না। সদরঘাটে লঞ্চগুলোতে যাত্রীর চাপ কিছুটা আছে, তবে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নয়। 

আজ ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ বলছে, ঈদের আগে ও পরদিন লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় বিশেষ চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *