যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন

যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের মাঝেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির নতুন খবর খতিয়ে দেখছেন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা। এই বড় ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ইতিবাচক প্রবণতা বা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খবর রয়টার্সের।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৪৯৯.৫৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সামান্য বৃদ্ধির পরও চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে দিনের শেষভাগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর খবর আসতেই বাজারে বড় পরিবর্তন ঘটে।

গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, ‘গতকাল আমরা দেখেছি স্বর্ণের দাম চার হাজার ৩৬০ ডলারে নেমে গিয়েছিল। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটি আরও কমার ঝুঁকিতে ছিল। কিন্তু ওই খবরের পর হঠাৎ করেই দামের চাকা উল্টো ঘুরে যায় ও আজ সকালেও বাজার এই স্থিতিশীল অবস্থানেই রয়েছে।’

রয়টার্সের সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এতে চূড়ান্ত অনুমোদন বা স্বাক্ষর করেননি। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনও সম্পূর্ণ চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বাজার এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চড়া মূল্যের জেরে গত এপ্রিল মাসে আমেরিকার মুদ্রাস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) আগামী বছরের একটা বড় সময় পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে।

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের মুদ্রানীতি সঠিক পথেই রয়েছে। তিনি আশা করছেন, স্বল্পমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বেশি থাকলেও বছরের শেষের দিকে এই চাপ কমে আসবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫.৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩৭৩.১৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে এক হাজার ৯১৫.৫৩ ডলারে নেমে গেছে এবং এটি সামগ্রিকভাবে সাপ্তাহিক দর পতনের দিকে এগোচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *