বিজিএমইএর ৯৯ শতাংশের বেশি কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক খাতে বেতন-ভাতা পরিশোধ পরিস্থিতিতে স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ পোশাক কারখানা শ্রমিকদের মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। একইসঙ্গে বিপুল সংখ্যক কারখানা মে মাসের অগ্রিম বেতনও দিয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২৬ মে) পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুই হাজার ১৩৪টি চালু কারখানার মধ্যে শতভাগ মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেছে দুই হাজার ১২৮টি কারখানা, যা মোট কারখানার ৯৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে দুই হাজার ১২৫টি কারখানা। অর্থাৎ, প্রায় ৯৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ কারখানার শ্রমিকরা ইতোমধ্যে বোনাস পেয়েছেন।  মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে দুই হাজার ২৩টি কারখানা, যা মোট কারখানার প্রায় ৯৫ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রফতানি আদেশে অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও পোশাক শিল্পে বেতন-বোনাস পরিশোধের পরিস্থিতি তুলনামূলক ইতিবাচক। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শ্রমিক অসন্তোষও তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা অঞ্চলে প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন পরিশোধ

তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা অঞ্চলের এক হাজার ৭৯৪টি চালু কারখানার সবগুলো মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। এপ্রিল মাসের বেতন দিয়েছে এক হাজার ৭৯০টি কারখানা। মাত্র চারটি কারখানায় এপ্রিলের বেতন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে এক হাজার ৭৯০টি কারখানা। হাতেগোনা কয়েকটি কারখানায় এখনও বোনাস দেওয়া হয়নি। তবে, সেগুলো বোনাস দেওয়া প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে এক হাজার ৭০৩টি কারখানা, যা মোট কারখানার প্রায় ৯৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ইতিবাচক পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩৪০টি চালু কারখানার সবগুলো মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। এপ্রিলের বেতন দিয়েছে ৩৩৮টি কারখানা। মাত্র দুটি কারখানায় বেতন এখনও বকেয়া রয়েছে। বোনাস দিয়েছে ৩৩৫টি কারখানা, যা মোট কারখানার প্রায় ৯৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। মে মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে ৩২০টি কারখানা।

চট্টগ্রামের শিল্প মালিকরা বলছেন, রফতানি আদেশে চাপ থাকলেও ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণ, ঈদ মৌসুমে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হলে উৎপাদন ও রফতানি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে।

শ্রমিক অসন্তোষ কমলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি

শ্রম বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার বেতন-বোনাস পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো হলেও সামগ্রিকভাবে শিল্প খাত এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে। ডলার সংকট, উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় অনেক কারখানা আর্থিক চাপে রয়েছে।

তাদের মতে, ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ হওয়া ইতিবাচক বার্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতকে স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, ব্যাংক সহায়তা সহজ করা এবং রফতানি বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *