পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ, সহমর্মিতা, মানবতা ও মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের আদর্শ মানবজাতির জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। এই মহান শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
জি এম কাদের বলেন, দেশের মানুষ আজ নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান চাপ অনেক পরিবারকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতে হবে। তাহলেই একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহান আল্লাহর দরবারে সকলের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ প্রার্থনা করেন।
তিনি আরো বলেন, বছরের দুইটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় কোটি কোটি মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রতি বছরই ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ, দীর্ঘ যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নৌ, সড়ক ও রেলপথে অব্যবস্থাপনা জনদুর্ভোগকে চরম আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন।
ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের আবেগ, অধিকার ও সংস্কৃতির অংশ। তাই জনগণের কষ্ট লাঘবে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি এবং পরিবহনখাতে অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে ঈদ যাত্রা মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হবে।
এসএন/পিডিকে