পাকিস্তানের কোয়েটায় শাটল ট্রেনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন।
রোববার (২৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছু পর চামান ফটকের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এপিপি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বরাতে এপিপি জানায়, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাওয়া শাটল ট্রেনটি চামান ফটকের কাছে পৌঁছানোর পরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের প্রকৃতি কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পাকিস্তান রেলওয়ে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা দল পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণে ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়, যার মধ্যে ইঞ্জিনও রয়েছে। আরও দুইটি বগি উল্টে যায় বলে জানায় এপিপি।
বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে শহরের বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকায়ও তা শোনা গেছে। এতে আশপাশের কিছু ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলের কাছে পার্ক করা কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়, পরে একাধিক দমকল ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অন্তত ১০টি যানবাহন পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অন্য ভিডিওতে ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেখা যায়।
বিস্ফোরণের পর পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। তিনি একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নিরীহ সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
পাকিস্তান রেলওয়ের মন্ত্রী হানিফ আব্বাসি ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা দেশটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না এবং রেলওয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার পেছনে ‘পাকিস্তানবিরোধী শক্তি’ জড়িত এবং ভারত ও আফগানিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে এবং হতাহতের সঠিক সংখ্যা পরে জানানো হবে।