অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকা নিয়ে সতর্ক করে ৫টি চিঠি দিয়েছিল ইউনিসেফ

বুধবার দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। ছবি : সংগৃহীত

ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে টিকা সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিল। তারা ১০টি মিটিংয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে একই কথা জানিয়েছিল।

আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ভালো খবর হচ্ছে- এক কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে, হাম নিয়ন্ত্রণে।

দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে টিকা সংকটের কারণ, টিকা সংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফ কী করেছে, এই সংকট আর যেন না হয়, সে বিষয়ে কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বারবার বলেন, হামে শিশুমৃত্যু দুঃখজনক।

টিকার সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান রানা ফ্লাওয়ার্স। ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।’

সাংবাদিকদের রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা ক্রয় করতে পারে। মনে রাখতে হবে, টিকার মজুত নিশ্চিত থাকা জরুরি। উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায়।

দেশে চলতি বছর হামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর বেশির ভাগই শিশু। ইতোমধ্যে মারাত্মক এই ভাইরাসে ৪৭৫ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। এ সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিলই না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে গাফিলতি এবার হামের এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

sn/sks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *