ডিজিএফপি ও পিএসটিসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ঢাকার পিএসটিসি মাল্টিপারপাস হলে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। ছবি : এনটিভি

বাংলাদেশে সমতাভিত্তিক ও উচ্চমানসম্পন্ন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করবে সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (ডিজিএফপি) এবং পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। 

গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার পিএসটিসি মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষে মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি ও পিএসটিসির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো- যুব, কিশোর-কিশোরী এবং দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর—এই পাঁচটি জেলায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। পরবর্তীতে জাতীয় অগ্রাধিকার ও কর্মসূচির প্রয়োজন অনুযায়ী এর পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিটের পরিচালক ডা. নাসির আহমেদ, আইইএম ইউনিটের পরিচালক মো. তছলিম উদ্দিন খান এবং পরিকল্পনা ইউনিটের পরিচালক সাবিনা পারভীন। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক প্ল্যানড প্যারেন্টহুড ফেডারেশনের (আইপিপিএফ) পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মিজ তমোকো ফুকুদা। অনুষ্ঠানে ডিজিএফপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং যুব নেতৃবৃন্দও অংশ নেন।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ডিজিএফপি ও পিএসটিসি যৌথভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে- সমন্বিত যৌনতা শিক্ষা, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য, জরুরি ও দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে এসআরএইচআর সেবা প্রদান, ধর্মভিত্তিক সম্পৃক্ততা, অ্যাডভোকেসি ও নীতিগত সংলাপ এবং প্রমাণভিত্তিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও মানোন্নয়ন কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে ডিজিএফপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কিশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন যোগাযোগ (এসবিসিসি) এবং জাতীয় স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, পিএসটিসির প্রতিনিধিরা কারিগরি সহায়তা, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও যুব নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে সরকারের এই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। 

এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে এবং যুববান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর হবে। পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও ক্ষতিকর ধ্যান-ধারণা হ্রাস করার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রস্তুতি এবং ‘মিনিমাম ইনিশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ (এমআইএসএফ) বাস্তবায়ন জোরদার করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পিএসটিসি বর্তমানে দেশের ২১টি জেলায় ২৩টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিবছর ১০ লক্ষাধিক মানুষকে স্বাস্থ্য ও প্রজনন সেবা দিয়ে আসছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্রেস্ট ও নথিপত্র বিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

sn/sks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *