বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান সিনেমা জগতে তার সততা এবং খুঁতখুঁতে স্বভাবের জন্য সুপরিচিত। ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ মুক্তির সময় থেকেই তিনি টেস্ট স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব বুঝেছিলেন। কিন্তু তিনি স্বীকার করেন যে, অন্য নির্মাতাদের টেস্ট স্ক্রিনিং তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের ‘হুইশলিং উডস ইন্টারন্যাশনাল’-এ আয়োজিত স্ক্রিন অ্যাকাডেমি মাস্টারক্লাসে এসে অভিনেতা নিজের এই স্বভাবেরই এক মজাদার অথচ নির্মম সত্য প্রকাশ করলেন।
আমির অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তিনি অন্য পরিচালকদের টেস্ট স্ক্রিনিংয়ে যাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। কারণ, সিনেমা খারাপ হলে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে প্রশংসা করতে পারেন না তিনি। ফলে তার আসল প্রতিক্রিয়া মুখেই ফুটে ওঠে।
মাস্টারক্লাসের সেশনে আমির খান জানান, শৈশব থেকেই তিনি সিনেমা দেখার তুলনায় বই পড়তেই বেশি ভালবাসেন। অন্যের সিনেমার স্ক্রিনিং এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমি খুব কম সিনেমা দেখি, যা শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমার এই অভ্যাস। আমি কোনোদিনই সিনেমার দর্শক হিসেবে দারুণ সক্রিয় ছিলাম না, তবে হ্যাঁ আমি প্রচুর বই পড়ি। আর এই প্রিমিয়ার, টেস্ট স্ক্রিনিংয়ে সিনেমা না দেখার অন্যতম কারণ হলো— আমি মিথ্যে বলতে পারি না।
কেউ যদি আমাকে স্ক্রিনিংয়ের পর জিজ্ঞেস করে সিনেমাটা কেমন লেগেছে, আমি হয়তো সরাসরি বলে দেব— ‘অত্যন্ত বাজে সিনেমা ভাই, বোর হয়ে গেলাম’, শুধু তাই নয়, এই ব্যাপারটা আমার মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠবে।’
আমির খানকে শেষবার বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ‘সিতারে জমিন পর’ সিনেমাতে। তবে তার আগামী প্রজেক্ট নিয়ে ইতোমধ্যেই বলিপাড়ায় তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
রাজকুমার হিরানির পরিচালনায় আসতে চলেছে অল-টাইম ব্লকবাস্টার ‘৩ ইডিয়টস’-এর বহুপ্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল। সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।