গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান আসিফ (২২) নামের এক অটোরিকশা চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ ও অটোরিকশাটি একটি গজারী বনের পাশের ফাঁকা মাঠে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। মরদেহের পাশ থেকে ওড়না, একজোড়া জুতা ও চুলের ব্যান্ড উদ্ধার করায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের বগারভিটা এলাকার গজারী বনের পাশের মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আসিফ একই গ্রামের মো. হুমায়ুন আহমেদ জাকিরের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আসিফ। সাধারণত রাত ১১টার মধ্যে তিনি বাড়িতে ফিরে আসতেন। তবে গতকাল নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তাকে ফোন করলে মোবাইল বন্ধ পান। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় এবং অন্য চালকদের কাছে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। আজ ফজরের আজানের পর বাড়ির অদূরে একটি নির্জন স্থানে কে বা কারা আসিফের অটোরিকশাটি ফেলে রেখে যায়। পরে সকালে স্থানীয়রা বগারভিটা এলাকায় তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
নিহতের মা আছমা বেগম বলেন, আমার ছেলে কোনোদিন রাত ১১টার বেশি বাইরে থাকে না। সারারাত অনেক খুঁজেও পাইনি। সকালে বাড়ির কাছেই ওর গাড়িটা পাওয়া গেল, আর একটু দূরেই আমার ছেলের গলাকাটা মরদেহ।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাক উজ্জামান। হত্যার রহস্য উদঘাটনে শ্রীপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই ও ডিবিসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ জানান, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নারীর ওড়না, জুতো ও চুলের ব্যান পাওয়া গেছে। এসব আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।