ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে, বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি এখন ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর থাকলেও এটি ‘অবিশ্বাস্য রকম দুর্বল’ অবস্থায় আছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এক্সে লিখেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে এবং শিক্ষা দিতে প্রস্তুত’।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো পাল্টা প্রস্তাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত তুলে ধরে।

তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরানের প্রস্তাব ছিল ‘দায়িত্বশীল’ ও ‘উদার’।

পরে গালিবাফ আরেক পোস্টে বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকারসম্বলিত ১৪ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যত বেশি সময়ক্ষেপণ করা হবে, তত বেশি মূল্য দিতে হবে মার্কিন করদাতাদের।’

তেহরানের প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান রয়েছে, যার মধ্যে লেবাননে ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি হামলাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ইরানি বন্দর অবরোধে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আর হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণের দাবি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম।

প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

রোববার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ‘ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব আমি এখনই পড়লাম। আমার এটা মোটেও পছন্দ হয়নি, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’

এর প্রতিক্রিয়ায় বাঘাই বলেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

সোমবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, এপ্রিল থেকে মাঝে মাঝে গোলাগুলি হলেও যুদ্ধবিরতি মোটামুটি টিকে আছে।

তিনি বলেন, আমি বলব, যুদ্ধবিরতি এখন ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে আছে… যেন ডাক্তার এসে বলছে, ‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ’।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নেতারা খুবই অসৎ মানুষ। তার ভাষায়, ‘আমি চার-পাঁচবার তাদের সঙ্গে ডিল করেছি, ওরা বারবার সিদ্ধান্ত বদলায়।’

তিনি বলেন, ‘ওরা যে আবর্জনার মতো প্রস্তাব পাঠিয়েছে, আমি সেটাও শেষ পর্যন্ত পড়িনি।’

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইরান পূর্বের সমঝোতা থেকেও সরে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’

তবে তাসনিম একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলতে হবে, নইলে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলা যাবে না।

তিনি সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এখনো কিছু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ধ্বংস করা বাকি।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ১৪ দফা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব ছিল।

অ্যাক্সিওসের দাবি, চূড়ান্ত সমঝোতা হলে এসব শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি রেখেছে, যাতে তেহরানকে নিজেদের শর্ত মানতে চাপ দেওয়া যায়। এতে ইরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। পরে গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *