দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষার কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠছিল সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র সরকারের বিরুদ্ধে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিলেও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ছিল বিজেপির। ফলে বহু এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ আটকে যায় এবং উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা।
ক্ষমতায় আসার আগেই এই বিষয়টিকেই বড় রাজনৈতিক ইস্যু করেছিল বিজেপি। অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্ত ঘিরে বেআইনি কার্যকলাপ ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে বারবার দাবি করেছিল দল। সেই কারণেই ক্ষমতায় এসেই সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, “আজ থেকেই বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ২১৭ কিলোমিটার। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি রয়েছে ৫৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত। এর মধ্যে ১১৩ কিলোমিটার নদীপথ হওয়ায় সেখানে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব নয়। তবে অবশিষ্ট ৪৫৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, এর আগেই ১৮১ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী জমির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৭ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে প্রয়োজন প্রায় ৬৭ একর জমি। এছাড়া ৯টি সীমান্ত চৌকি নির্মাণের জন্য প্রয়োজন আরও ১৮ একর জমি। জেলা প্রশাসন জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আগের সরকারের আমলে তা কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ।
এমনকি চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চও নির্দেশ দিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যে সীমান্তবর্তী জমির জন্য অর্থ দিয়েছে, সেই জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশও কার্যকর করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
ফলে জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিল বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। নতুন সরকারের দাবি, দ্রুত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্ত ঘিরে বিভিন্ন অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এসএন/পিডিকে