‘এক ঝাপটায় সব শেষ। বাঁচে আছি এইটুক বেশি। ছেলেমেয়ে নিয়ে এহন কই যাব? ঘর যে বানাবো সেই সামর্থ্য তো নাই। বড় কষ্টে পড়ছি আমরা। ঘর ভাঙে পড়লি, দুই সন্তান কোলে করে দৌড় মারি, পাশের বাড়ি যায়ে উঠি। ওরা আমাগে রাতি থাকতি দেছে। কিন্তু এহন আমরা কই যাব?’ কথাগুলো বলছিলেন মৌহা বিশ্বাস।
মৌহা বিশ্বাস নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তালেশ্বর গ্রামের মিঠুন বিশ্বাসের স্ত্রী। অভাবের সংসারে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মাঠে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান এ দম্পতি।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে যায় ঘরের চালা। গাছ ভেঙে পড়ে দুমড়ে মচকে যায় পুরো ঘরটি। পুরোনো টিনের জরাজীর্ণ ঘরে জোড়াতালি কোনো রকমভাবে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন তারা।
আজ রোববার (১০ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মৌহা তার স্বামীকে নিয়ে ঝড়ে উড়ে যাওয়া ঘরের টিন বাড়ির সামনে থেকে তুলে আনছেন। ঘরে পড়ে থাকা বিশাল আকৃতির রেইনট্রি গাছ স্থানীয়রা কেটে সরিয়ে দিতে সহায়তা করছে। ঘরের টিনগুলো দুমড়েমুচড়ে গেছে। টিনগুলো পিটিয়ে সোজা করা হচ্ছে। ঘরটি কীভাবে তোলা যায় সেই চেষ্টা তাদের।
মৌহা বিশ্বাসের স্বামী মিঠুন বিশ্বাস বলেন, সারা দিনের কাজ শেষ করে বারান্দায় এসে কেবল একটু বসলাম। হঠাৎ ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে যায় ঘরের চাল। এদিকে ঘরের পিছনের রেইনট্রি গাছ এসে ভেঙে পড়ে ঘরের ওপর। অভাবের সংসার আমার। মা অসুস্থ। যা আয় হয় খেয়ে-পরে জীবন বাঁচানো দায়। ভাঙাচোরা ঘরটিতে বৌ-বাচ্চা নিয়ে থাকতাম। ঝড়ে যা করে দিয়ে গেল, এহন আমরা কই যাব? সরকার যদি আমাদের একটু সাহায্য করত, ঘর করে বৌ-বাচ্চা নিয়ে বাঁচতে পারতাম৷
তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ইকরামুল বিশ্বাস বলেন, ঝড়ে ঘর উড়ে যাওয়া কথা শুনে দেখতে এসেছি। অনেক কষ্টের সংসার তাদের। মিঠুনের যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবা তাকে ও তার মাকে রেখে চলে যান। সেই থেকে অভাব পিছু ছাড়েনি। মা এখন অসুস্থ। বৌ বাচ্চা নিয়ে কোনো রকম সংসার চলে তার।
নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম. রাহসিন কবীর বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মৌহা বিশ্বাসের পরিবার আবেদন করলে সরকারি নিয়মে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে৷