হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (৫ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় সচল করার জন্য ওয়াশিংটন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করলেও এটি ইরানের ওপর কোনো বড় ধরনের আক্রমণের অংশ নয়। খবর আল জাজিরার।
হেগসেথ জানান, যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রচেষ্টায় ইরান কিছু বাধা সৃষ্টি করলেও ওয়াশিংটন তা আপাতত সহ্য করছে। তবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রেসিডেন্ট কঠোর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সোমবার (৪ মে) সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের সাতটি ছোট সামরিক নৌকা ভূপাতিত করেছে। এই সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে। উপসাগরে একটি যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন ও আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় ইরানি হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার, ড্রোন ও শত শত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি একে প্রণালির ওপর একটি ‘শক্তিশালী লাল, সাদা ও নীল গম্বুজ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে আছে।
তেহরান মার্কিন অভিযানকে প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, এই জলপথ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই নৌ-নিরাপত্তা বিপন্ন করছে। যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের আগে তিন ডলারের নিচে ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক প্রভাবকে স্বীকার করলেও একে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নির্মূল করার জন্য ‘সামান্য মূল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।