২৩ ঘণ্টা সচল থাকার পর আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এক নম্বর ইউনিটটি মেরামত শেষে শুক্রবার (১ মে) রাত সাড়ে ৮টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যায়। তবে ২৩ ঘণ্টা চালু থাকার পর শনিবার (২ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ইউনিটটির উৎপাদন ফের বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘বয়লারের টিউবে ত্রুটির কারণে চলমান ১ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার আগে ইউনিটটি থেকে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছিল।’
প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে; তবে পুনরায় কবে ইউনিটটি চালু করা যাবে, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১ নম্বর ও ২ নম্বর ইউনিট নির্মিত হয়; প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১২৫ মেগাওয়াট করে। পরে ২০১৭ সালে আরও ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট যুক্ত করা হয়।
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি ও কারিগরি জটিলতার কারণে কখনো পূর্ণ ক্ষমতায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি—এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।