শিশু খাদ্যে ইঁদুর মারার বিষ, অতঃপর যা হলো

অস্ট্রিয়ায় শিশুদের একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের খাবারে ইঁদুর মারার বিষ পাওয়ার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার (৫ মে) দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ায় বিক্রি হওয়া শিশুখাদ্যের জারে (বয়াম) ইঁদুর মারার বিষ এবং ‘বিষাক্ত পদার্থ’ পাওয়ার পর গত মাসে সুইস কোম্পানি হিপ (এইচআইপিপি) তাদের পণ্য আংশিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।

বিশ্বের সেরা অর্গানিক শিশুখাদ্য ব্র্যান্ড দাবি করা হিপ তাদের পণ্য আংশিক প্রত্যাহারের সময় জানায়, উৎপাদনের সময় তাদের পণ্যগুলো বিষাক্ত হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন একটি ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ কারণে পণ্যগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের স্যাক্সেলন-ভিত্তিক ব্র্যান্ডটি পরে জানায়, একজন চাঁদাবাজ ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বার্গেনল্যান্ডের পুলিশ আজ রোববার (৩ মে) নিশ্চিত করেছে, তারা এ ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বার্গেনল্যান্ড প্রাদেশিক পুলিশ অধিদপ্তরের মুখপাত্র হেলমুট মারবান বলেন, কৌশলগত কারণে আমরা তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছি না।

গত মাসে বিষাক্ত শিশুখাদ্য শনাক্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে হিপের যে জারগুলোর নিচে লাল বৃত্তসহ সাদা স্টিকার, ভাঙা ঢাকনা, সুরক্ষা সিলবিহীন অথবা অদ্ভুত গন্ধ রয়েছে, সেগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার মতো বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পরামর্শ দিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার মতে, ইঁদুর মারার বিষ শরীরে ‘ভিটামিন-কে’ ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে এবং এটি খাওয়ার দুই থেকে পাঁচ দিন পর সাধারণত লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *