কিশোরগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের প্রভাবে কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় বাসসকে জানায়, জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বেড়েছে। ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.০১ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ২ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৬৩ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৩০ মিটার বেড়েছে। ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ১.৮৭ টিারে দাঁড়িয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সবকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১৪ থেকে ৩৯৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে হাওরাঞ্চলের বোরো ধানের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বাসসকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্যমতে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *