চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে আয়েশা আক্তার (১০) নামের এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিশুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

আয়েশা জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল এলাকার রাকিব মিয়ার মেয়ে। পরিবারের দাবি, গত ৯ মাস আগে নানার মাধ্যমে তাকে শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার চিকিৎসক নোমান ও চিকিৎসক কিমিয়া সাদাত তোফার বাসায় কাজে দেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা রাকিব মিয়া ও মা নারগিস বেগমের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে আয়েশার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ওই চিকিৎসক দম্পতি জানায় যে আয়েশা বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে গত ২৬ এপ্রিল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা। এর প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে পুলিশ ওই চিকিৎসক দম্পতির প্রতিবেশী একটি বাড়ি থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করে। আয়েশার শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের দাবি, কাজে সামান্য ভুল হলেই তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। এখন চুরির অপবাদ দিয়ে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

তবে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক নোমান। তিনি জানান, তার স্ত্রী চিকিৎসক তোফা গর্ভবতী হওয়ায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে রাখা হয়েছিল। তিনি নিজে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে ছিলেন। তার দাবি, গত ২২ এপ্রিল আয়েশা বাসা থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। এই খবর পেয়ে তিনি দেশে ফিরে সদর থানায় অভিযোগ দেন। চুরির অপরাধ থেকে বাঁচতেই তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আয়েশার নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সূত্র ধরে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নির্যাতনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *