গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় জামিন পেলেন বিমানের সেই এমডি

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাফিকুর রহমানের জামিন দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ মঈন উদ্দিন চৌধুরী এই আদেশ দেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি পক্ষের আইনজীবী খোরশেদ আলম জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে এই আইনজীবী উল্লেখ করেন, আসামি খুবই নিরীহ ও সহজ-সরল প্রকৃতির ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক পদে ছিলেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭১ দিন ধরে জেল হাজতে আটক রয়েছে। বর্তমানে শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ থাকার কারণে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জামিনের প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।

নথি থেকে জানা গেছে, মামলার বাদী একজন হোটেল কর্মচারী। মামলার আসামি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীর বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে বাদীর পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর বাদীকে জানান, তিনি যে বাসায় চাকরি করেন সেখানে বসবাসরত দম্পতির বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে বাচ্চা খুঁজতেছেন। পরে তাদের সঙ্গে দেখা করেন বাদী। তারা জানায়, যাকে রাখবে বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে। তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন বাদী। গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় ১১ বছরের শিশুকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন বাবা। তবে এরপর আর ওই শিশুকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি আসামিরা। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী শিশুটির বাবাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে। পরে মেয়েকে আনতে যান তার বাবা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদীর কাছে তার মেয়েকে বুঝিয়ে দেন সাথী। তখন বাদী দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারে না। পরে তার মেয়েকে নিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবার সঙ্গে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান ও বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিটসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।

এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা উত্তর পশ্চিম থানায় নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটি করেন। গত গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টায় উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে শফিকুর দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে এই মামলায় শফিকুর ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *