সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়নি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কল্পে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন ও সপ্তাহে তিন দিন অফিস পরিচালনাসংক্রান্ত একটি স্মারকপত্র ভাইরাল হয়েছে। তবে এটি ভুয়া বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কল্পে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন ও সপ্তাহে তিন দিন অফিস পরিচালনা প্রসঙ্গে গত ১ এপ্রিল একটি স্মারকপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো পত্র জারি করা হয়নি। এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে বলে গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

কর্মকর্তারা বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দু-দিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তার আগেই বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হোম অফিস সংক্রান্ত একটি ভুয়া পত্র ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে বলা হয়, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা সপ্তাহের দু-দিন ওয়ার্ক ফর্ম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। ‌বাকি তিনদিন অফিস খোলা থাকবে। এই তিন দিন হলো রবি, সোম ও মঙ্গলবার।‌ বুধ ও বৃহস্পতিবার কর্মচারীরা কাজ করবেন বাড়ি থেকে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার।

ভাইরাল সেই পত্রে আরও বলা হয়, যে তিন দিন সরকারি দপ্তর খোলা থাকবে সেই দিনগুলোতে সকাল ৮টায় অফিস শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বাকি দুদিন দাপ্তরিক কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে সম্পন্ন করতে হবে।

তবে জরুরি পরিষেবা দানকারী সংস্থাসমূহ (হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ইত্যাদি) এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে এবং তাদের নিজস্ব বিধি মোতাবেক নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *