শিশুর টিকা কার্ডে ‘হামের টিকা’ দেওয়া হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে? জেনে নিন সহজ উপায়

শিশুর সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জন্মের পর

থেকেই নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী শিশুদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ‘হাম’-এর টিকা অন্যতম। তবে অনেক সময় অভিভাবকেরা টিকা কার্ড হাতে পেয়েও বুঝতে

পারেন না যে তাদের শিশুকে আসলেই হামের টিকাটি দেওয়া হয়েছে কি না।

টিকা

কার্ডে সাধারণত চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত ইংরেজি নাম, তারিখ বা বিভিন্ন চিহ্ন থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি কিছুটা জটিল মনে

হতে পারে। তবে একটু সচেতন হয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট নাম ও তথ্যের দিকে খেয়াল রাখলেই খুব

সহজে নিশ্চিত হওয়া যায় শিশুর হামের টিকা সম্পন্ন হয়েছে কি না।

টিকা

কার্ডে হামের টিকা যে নামে থাকে

অভিভাবকদের

বিভ্রান্তি দূর করতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টিকা কার্ডে সাধারণত

সরাসরি ‘Measles’ বা হাম লেখা না-ও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে

নিচের সংক্ষিপ্ত নামগুলো খেয়াল করতে হবে:

Measles (মিজলস): এটি হামের একক টিকা।

MR (মিজলস-রুবেলা): এটি হাম ও রুবেলা রোগের সম্মিলিত টিকা।

·MMR (মিজলস, মাম্পস, রুবেলা): এটি হাম, মাম্পস ও রুবেলা এই তিনটি রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

কার্ডে

এই তিনটি নামের যেকোনো একটি উল্লেখ থাকলেই বুঝতে হবে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া

হয়েছে।

নামের পাশাপাশি আর কী যাচাই করবেন?

শুধু টিকার নাম থাকাই যথেষ্ট নয়। কার্ডটি শতভাগ নিশ্চিত করতে আরও কয়েকটি বিষয় যাচাই করে

নেওয়া ভালো: ১. টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখটি কার্ডে স্পষ্টভাবে লেখা আছে কি না। ২.

টিকা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো সিল বা স্বাক্ষর সেখানে রয়েছে কি না। ৩. টিকার

কোন ডোজটি (১ম নাকি ২য়) দেওয়া হয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ

আছে কি না।

কতটি ডোজ এবং কখন দিতে হয়?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর পূর্ণ সুরক্ষার জন্য হামের টিকা সাধারণত

দুইবার বা দুটি ডোজে দেওয়া হয়ে থাকে।

প্রথম ডোজ: শিশুর ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে।

· দ্বিতীয় ডোজ: শিশুর ১৫ মাস বয়সে বা তার কিছুদিন পরে। দুটি ডোজই সময়মতো সম্পন্ন করলে শিশুর শরীরে হামের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।

কার্ডে তথ্য না থাকলে কী করবেন?

যদি কোনো শিশুর টিকা কার্ডে হামের টিকার নাম লেখা না থাকে অথবা তথ্যটি অসম্পূর্ণ বা

অস্পষ্ট মনে হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

প্রয়োজনে শিশুকে পুনরায় এই টিকা দেওয়া যায় এবং এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

শিশুর উজ্জ্বল ও সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য টিকা কার্ডটি সবসময় যত্নসহকারে সংরক্ষণ করার জন্য

অভিভাবকদের বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *