যুদ্ধে প্রাণহানির নিন্দা করে ইরানি নাবিকদের আশ্রয় দিল শ্রীলঙ্কা

ইরানের একটি জাহাজে প্রাণঘাতী টর্পেডো হামলার পর সাহায্যপ্রার্থী দুইশ’র বেশি ইরানি নাবিককে আশ্রয় দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। একইসঙ্গে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রাণহানির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই নাবিকদের তীরে আনা হয় এবং বর্তমানে তারা শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর কাছে একটি সামরিক ক্যাম্পে রয়েছেন। তাদের জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’ এখন শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামে ইরানের একটি জাহাজ মার্কিন টর্পেডো হামলার শিকার হওয়ার পর ‘বুশেহর’ ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কথা জানিয়ে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি চায়।

ওয়াশিংটন এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায় যে, হামলায় অন্তত ৮৪ জন ইরানি নাবিক নিহত এবং ৬৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এ প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো—প্রতিটি জীবনই আমাদের নিজেদের জীবনের মতোই মূল্যবান।’ পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযানের পর ইরানের পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি শান্তির আহ্বান জানান।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ওই হামলায় আক্রান্ত ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে এবং দক্ষিণ উপকূলীয় শহর গলের একটি হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবারের এই হামলাটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে প্রথম কোনো সামরিক আঘাত। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো নিক্ষেপ করে হামলা চালানো হলো।

শ্রীলঙ্কা কেবল ইরানের দ্বিতীয় জাহাজটিকে তাদের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতিই দেয়নি, বরং নাবিকদের কলম্বোর বাইরে একটি নৌঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্য জীবন বাঁচানো এবং মানবিকতা বজায় রাখা।’

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে বলেন, নাবিকদের আশ্রয় দেওয়া একটি রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে সাহসী ও মানবিক পদক্ষেপ। আমরা আমাদের নিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং জীবন রক্ষা করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

শ্রীলঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার প্রধান রপ্তানি পণ্য চায়ের অন্যতম বড় ক্রেতা ইরান।

শ্রীলঙ্কার একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, ‘আইআরআইএস বুশেহর’-এর ২০৮ জন ক্রু-র মধ্যে ২০৪ জনকেই তিনটি নৌ-যানে করে তীরে আনা হয়েছে। বাকি চারজন ইরানি নাবিক শ্রীলঙ্কান নৌ-সেনাদের সহায়তার জন্য জাহাজে অবস্থান করছেন। জাহাজটিকে এখন কলম্বো বন্দর থেকে দূরে দ্বীপের পূর্ব দিকে অবস্থিত ত্রিনকোমালি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *