ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহদি তাজ।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে ইরানের ঘরোয়া ফুটবল লিগ ‘পার্সিয়ান গালফ প্রো লিগ’ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আলোচনা এখন আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। ড্র অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মেহদি তাজ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত একটি দেশে গিয়ে ফুটবল খেলা ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেহদি তাজ বলেন, ‘আজ যা ঘটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে বিশ্বকাপে ফোকাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ক্রীড়া কর্মকর্তাদেরই।’
মেহদি তাজ আরও জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের মানসিক অবস্থাও ভালো নেই। সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ থাকায় অনেক বিদেশি ফুটবলারও বর্তমানে ইরানে আটকা পড়েছেন। সব মিলিয়ে ইরানের ফুটবল এখন ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে।
বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরানের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস আর সিয়াটলে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। একই মাঠে ২১ জুন তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। আর ২৬ জুন শেষ ম্যাচটি হওয়ার কথা সিয়াটলে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও ভিসাসংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কা ছিল। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী অন্য কোনো দলকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হতে পারে।