মার্কিন স্টিলথ ফাইটার জেট ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক বাহিনী দেশটির মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র পাইলটকে খুঁজে বের করতে ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানিয়ে তারা। খবর ডেইল মিররের।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ইরানের আধা-সরকারি মেহের সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ ফাইটার জেট ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এর পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

এদিকে, সরকার সংশ্লিষ্ট ইরানি সংবাদ নেটওয়ার্ক ‘প্রেস টিভি’ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ইরানে ভূপাতিত মার্কিন এফ-৩৫ ফাইটার জেটের ধ্বংসাবশেষ।

সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমানের ভিডিও পোস্ট করেছে। তাদের দাবি, বিমানটি ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল।

পোস্টটিতে বলা হয়েছে, ভূপাতিত ফাইটার পাইলটকে মুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কোহগিলুয়েহ-তে তাসনিমের প্রতিনিধিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ভূপাতিত পাইলটকে উদ্ধারে এক ঘণ্টা আগে থেকে আমেরিকানরা ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং হারকিউলিস ১৩০ ব্যবহার করে অভিযান শুরু করেছিল, তবে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’

ইরানি সংবাদমাধ্যমের এই প্রতিবেদনগুলো নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এই অঞ্চলে দায়িত্বরত মার্কিন সামরিক কমান্ড ‘সেন্টকম’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে একটি ফাইটার জেট ভূপাতিত করার যে দাবি ইরান আগে করেছিল, তা ছিল ‘মিথ্যা’।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, একটি মার্কিন এফ-৩৫ ফাইটার জেট শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

তবে ইরানের সাম্প্রতিকতম এই দাবিগুলোর বিষয়ে পেন্টাগনের ক্রমাগত নীরবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, পেন্টাগন হয়তো বর্তমানে ভূপাতিত পাইলটকে উদ্ধারের জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করছে বলেই মুখ খুলছে না।

এ প্রসঙ্গে স্কাই নিউজের সামরিক বিশ্লেষক শন বেল বলেন, ‘যখনই এ ধরনের কোনো বিমান বিধ্বস্ত হয়, তখনই একটি বিশাল কমব্যাট এবং সারভাইভাল রেসকিউ মিশন শুরু করা হয়। হেলিকপ্টার, গানশিপ, সৈন্য এবং সব মিলিয়ে এটি একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া।’

শন বেল আরও বলেন, ‘যদি কোনো পাইলটকে তারা বন্দি করতে পারে, তবে ইরান একে একটি প্রোপাগান্ডা বিজয় হিসেবে দেখবে এবং সম্ভবত সেই পাইলটকে টেলিভিশনে দেখাবে। তবে এই মুহূর্তে ইরানি সংবাদমাধ্যমের করা এই দাবিগুলো সত্য কি না, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *