ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জেলার দুটি থানায় ৯ জন দালালের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার।
এর আগে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজন ও দিরাই থানায় চারজনকে আসামি করে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দিরাই থানায় দায়ের করা মামলার বাদী হয়েছেন ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান। অন্যদিকে, জগন্নাথপুর থানায় দায়ের করা মামলার বাদী হয়েছেন পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমান। তার ছেলে আমিনুর রহমানও এই ঘটনায় মারা গেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৪৮ জন যাত্রী নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে একটি ছোট রাবারের বোটে যাত্রা শুরু করেন তারা। যাত্রাপথে সাগরের মাঝে নৌযানটির জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। পথ হারিয়ে বোটটি টানা ছয়দিন সাগরে ভাসতে থাকে। তীব্র পানিশূন্যতা ও অনাহারে ধুঁকে ধুঁকে মারা যান ১২ জন তরুণ। মৃত্যুর পর দুইদিন মরদেহগুলো বোটে রাখার পর সঙ্গীরা বাধ্য হয়ে তা সাগরে ভাসিয়ে দেন। গত ২৭ মার্চ গ্রিস উপকূলের কাছাকাছি ভাসমান বোট থেকে ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে গ্রিসের কোস্টগার্ড। পরদিন ২৮ মার্চ বিকেলে নিহতদের স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, পুলিশ অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পলাতক দালালদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।