ব্রাজিলে প্রবল বৃষ্টিপাতে বন্যা-ভূমিধস, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

ব্রাজিলের জুইজ ডি ফোরা এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধসের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। ছবি : এএফপি

ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা ও ভূমিধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবারের ভয়াবহ বৃষ্টিঝড়ে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, উদ্ধারকর্মীরা আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিখোঁজ আরও ১৪ জনের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

সোমবার রাতের প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধসে ১২ জনেরও বেশি মানুষ মাটিচাপা পড়ে এবং জুইজ ডি ফোরা ও উবা শহরে বন্যা দেখা দেয়। এই ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এরপর বুধবার রাতে অঞ্চলটিতে পুনরায় বৃষ্টি শুরু হলে বাসিন্দারা তাদের মোবাইল ফোনে আবারও ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা পান।

৩৫ বছর বয়সী বিক্রেতা লুইজ ওটাভিও সুজা এএফপি-কে বলেন, ‘প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে, নদীর পাড় আরও ধসে পড়েছে এবং সিভিল ডিফেন্স আমাদেরকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেছে।’ লুইজ নিজেও ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং তার ভাগ্নে নিখোঁজ রয়েছে।

জুইজ ডি ফোরা শহরের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে পার্ক বার্নিয়ার। এখানে সোমবার রাতে কাদার স্তূপের নিচে বেশকিছু  বাড়িকে চাপা পড়েছিল। এখানকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘সবাই আতঙ্কিত, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনরা আমাদের খোঁজ নিচ্ছে। এটি যেন একটি ভৌতিক সিনেমা।’

এএফপি-র একজন প্রতিবেদক জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ট্রেস মইনহোস এলাকায় ভূমিধসে তিনটি বাড়ি মাটিচাপা পড়ে। তবে এর আগেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া অনেক বাসিন্দা আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, তোশক এমনকি তাদের ফেলে যাওয়া পোষা প্রাণীগুলো উদ্ধার করতে এলাকায় ফিরে আসেন।

এদিকে, মিনাস গেরাইস প্রদেশের গভর্নর রোমেউ জেমা ‘সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে’ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘জর্নাল ন্যাসিওনাল’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্য সরকার গত তিন বছরে দুর্যোগ প্রতিরোধে ব্যয় ৯৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এরপরই গভর্নর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেন।

প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের এই ধরণ ব্রাজিলে ঘটে যাওয়া একের পর এক চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের সবশেষ উদাহরণ। বিজ্ঞানীরা এর অনেকগুলোকেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন।

জুইজ ডি ফোরার মেয়র মার্গারিডা স্যালোমাও জানিয়েছেন, পৌরসভাটিতে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন বন্যায় দুশোরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল এবং ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *