বিসিবি নির্বাচন ইস্যুতে তদন্ত রিপোর্ট যাচ্ছে আইসিসিতে: আমিনুল হক

বিসিবি নির্বাচনের অনিয়মের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আইসিসির কাছে পাঠাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এরপরই বোর্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তদন্ত কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল, নির্বাচনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা।   

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আমিনুল হক বলেন, ‘দেখুন, ইতোমধ্যে সকালবেলা তদন্ত কমিটি এসে প্রতিবেদন জমা দিয়ে গেছে। দেওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটা সভা ডেকেছিলাম। সেই সভায় আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আইসিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত করার পরেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো ইনশাল্লাহ।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেখুন, ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা হয়েছে। সুতরাং তিনি অংশগ্রহণ করেননি নিশ্চয় সেই প্রতিবেদনের ভেতরে রয়েছে। আমরা সেটি যাচাই-বাছাই করেছি যে তিনি উপস্থিত হননি, সেটা আমিও দেখেছি। আমরা আইসিসির সঙ্গে কথা বলে তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত আপনাদের জানাবো।’

তদন্ত কমিটিকে সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল ১৫ কার্যদিবস, তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। নির্বাচন শুরুর আগে থেকেই অস্বচ্ছতা ও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়েও ছিল বিতর্ক। বর্তমান বোর্ড সভাপতির বিরুদ্ধেও ছিল নিয়ম ভাঙার অভিযোগ।  

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘কাউকে অভিযুক্ত করে নয়, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছিল, তিনি আসেননি।’ 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের নানা অসঙ্গতি ও সীমাবদ্ধতা। কমিটির মতে, এসব ত্রুটি সংশোধন না করা হলে ভবিষ্যতে নির্বাচনকে পুরোপুরি হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। ৩৪ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও তুলে ধরা হয়েছে। 

শুধু সারসংক্ষেপ নয়, তদন্ত কার্যক্রমে সংগৃহীত নথিপত্রের পরিমাণও বিশাল। বিভিন্ন পক্ষের জমা দেওয়া দলিল, শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্যসহ মোট নথির পরিমাণ হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে। 

গঠনতন্ত্র সংশোধন প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান জানান, ভবিষ্যতে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা যায় এবং বোর্ড পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হয়— সেই লক্ষ্যেই কিছু সুপারিশ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *