বিজেপি এলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে: কলকাতায় অমিত শাহ

বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালি হেনস্থা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা ঢোকে, তারাও বাংলা বলেন। তবে এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সঙ্কল্প, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বিতাড়িত করব।’

শনিবার (২৮ মার্চ) কলকাতায় সংবাদ সম্মেলন এসে অমিত শাহ আরও বলেছেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে রাজ্যের নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশা, দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা, শিল্প বন্ধ্যাত্বসহ অনুপ্রবেশ বেড়েছে।

অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে শাহ বলেছেন, এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? এবার আপনার প্রশ্ন তুলবেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী (বিএসএফ) থাকতে কী করে এত অনুপ্রবেশ হচ্ছে? আসলে বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে কাঁটাতার লাগাতে দেবেন। এই সরকার জমি দিচ্ছে না। তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন‍্য প্রয়োজনীয় জমি এ রাজ্যের বিজেপি সরকার কেন্দ্রকে দেবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিমত, আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ এবং গোটা দেশের কাছে। কারণ গোটা দেশের সুরক্ষা একপ্রকার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সাথে জড়িত।

তিনি বলেছেন, আসামে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, অনুপ্রবেশ ইস্যু একেবারে শেষ হয়ে গেছে। কেবলমাত্র এই পশ্চিমবঙ্গের পথই এখন খোলা রয়েছে, যেখান দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করে গোটা দেশের ভিতরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ভারত সুরক্ষা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

তার স্পষ্ট বার্তা, ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে আমরা পরিষ্কার বলে দিতে যাই কেবলমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নয়, গোটা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠানোর সংকল্প নিয়েছি এবং এটাই বিজেপির দলের এজেন্ডা।

শাহ বলেছন, এবাবে ভোটে, বিজেপির ইসতেহারে অনুপ্রবেশ ইস্যুটি খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীরা কেবলমাত্র দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই চিন্তার বিষয় নয়, এই অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় গরীব শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে থাবা বসিয়েছে, তাদের খাদ্যে থাবা বসিয়েছে। আমি জানি দিদি (মমতা) হয়তো বিএসএফের ঘাড়ে দোষ চাপাবেন। বিএসএফ তখনই অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে পারে যেখানে সীমান্তের কাঁটাতার থাকে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে এখনো পর্যন্ত ৬০০ কিলোমিটার এখনো পর্যন্ত অরক্ষিত আছে, কিন্তু রাজ্য সরকারকে বলার পরেও জমি দিচ্ছে না। বিজেপি সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই সমস্ত অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতার লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাবো।

মুসলিম সংখ্যালঘু তোষণ নিয়ে অমিত শাহর প্রশ্ন, সংরক্ষণে মুসলিমরা ছাড়া কি আর অন্য কোন সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া মানুষ নেই? ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ হবে? এই জিনিস চলতে পারে না। অনুপ্রবেশকারীদের তোষণের কারণে আজ শিলিগুড়ির করিডোর সুরক্ষা আজ নড়বড়ে হয়ে গেছে। পাচার এবং জাল নোটের পাচারের কারণে, গোটা ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। আজ গোটা রাজ্যে এই তোষণের রাজনীতি বড় আকার ধারণ করেছে।

নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও একজন নারী। কিন্তু তার শাসনামলে নারীদের অবস্থার সবচেয়ে খারাপ। নারীদের বিরুদ্ধে যারা অত্যাচার করে সেই অপরাধীদের তৃণমূলের নেতারাই আশ্রয় দেয়।

এদিনের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন অমিত শাহ। সেখানে বাংলার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, দুর্নীতি রোধ, সুশাসন ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সবশেষে শাহ বলেছেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *