আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের যেগুলো বাতিল হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। বিরোধী দলীয় নেতারা এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন’।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে, বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারের মতো উদ্যোগগুলোর আর কোনো বৈধতা থাকছে না।
মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রহিত হওয়া সাতটি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা সংশোধনের মাধ্যমে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, স্বতন্ত্র সচিবালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মানবাধিকার কমিশনসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ রহিতকরণের ফলে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বিরোধী দলগুলো।
বিরোধী দলীয় নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন—আমরা এগুলো (অধ্যাদেশগুলো) (পাস) করিনি, বাদ দিয়েছি; তারা মূলত এটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা সাতটি অধ্যাদেশকে চারটি বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। গত ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন বসার পর সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে সেগুলো অনুমোদিত না হওয়ায় এসব অধ্যাদেশের আর কোনো কার্যকারিতা থাকছে না।