ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান পাস হলো ইসরায়েলের পার্লামেন্টে

প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসিকে স্বাভাবিক শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থী মিত্রদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে সোমবার এই আইন পাস করা হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, এই আইন ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। কিন্তু একই ধরনের অপরাধে জড়িত ইহুদি ইসরায়েলিদের জন্য তা প্রযোজ্য হবে না।

এই আইনে দণ্ডাদেশের ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে, যেখানে বিলম্বের জন্য কিছু সুযোগ রাখা হলেও ক্ষমার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এতে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আরোপের বিকল্প রাখা হয়েছে, তবে তা কেবল অনির্দিষ্ট ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে।’

ইসরায়েল ১৯৫৪ সালে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করে। ইসরায়েলে বেসামরিক বিচারের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন নাৎসি হলোকাস্টের অন্যতম স্থপতি অ্যাডলফ আইখম্যান, যাকে ১৯৬২ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতগুলো ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনি দণ্ডিতদের মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে। কিন্তু তারা তা করেনি।

এই আইনটি প্রচার করেন কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির, যিনি ভোটের আগে ফাঁসির দড়ির আকৃতির ল্যাপেল পিন পরতেন।

পার্লামেন্টে বেন-গাভির বলেন, “আজ নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দিন, শত্রুদের জন্য প্রতিরোধের দিন। যে সন্ত্রাস বেছে নেয়, সে মৃত্যুকে বেছে নেয়।”

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *