‘আপনি হাত লাগালেই বদলে যাবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে ধারণ করে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে শুরু হয়েছে শতবর্ষী খামা খাল পুনর্খনন কার্যক্রম। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা এলাকায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল খনন কাজ শুরু হয়।
শতবর্ষী খামা খাল পুনর্খনন কার্যক্রমে আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করন। কোদাল দিয়ে খননের পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে এস্কেভেটর।
দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। খালটি পুনর্খনন সম্পন্ন হলে খামা বিল থেকে গোলডুবা বিল পর্যন্ত পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে। এর ফলে আশপাশের কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এই উদ্যোগ তাদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আমরা নিজেরাই কাজটি করতে পেরে গর্বিত। খালটি খনন হলে আমাদের কৃষি কাজে অনেক উপকার হবে। পাশাপাশি মাছ ধরে অনেকের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ উদ্যোগের উদ্যোক্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য সাবেক কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক এবং খন্দকার শামসুল আলম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, এই খাল খনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি সচেতনতা। জনগণ এগিয়ে এলে দেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত সম্ভব। আমরা চাই, এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।
খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, খালটি সম্পূর্ণ খনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালটি পুনর্খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।