নিষিদ্ধ হলেন ভারোত্তোলক মাবিয়া

বিশ্ব মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। টানা দু’বার এসএ গেমসে  সোনা জিতেছেন এই তারকা। অলিম্পিকের এই ডিসিপ্লিনে সোনালী ক্যারিয়ার গড়েছিলেন মাবিয়া। কিন্তু হঠাৎই যেন ঘন কালো মেঘ নেমে এসেছে তার ক্যারিয়ারে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলন থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন এই তারকা।

গত বৃহস্পতিবার সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) মাবিয়ার এই নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাঠিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের সময়। গেমস শুরুর আগে ২৯ অক্টোবর ঢাকায় মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’ নামক নিষিদ্ধ দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো সাধারণত শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়, যা অ্যাথলেটদের জন্য নিষিদ্ধ।

নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে ভেঙে পড়লেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন মাবিয়া। তাঁর দাবি, পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য নয়, বরং অসুস্থতার কারণে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি।

দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমকে মাবিয়া বলেন, ‘আমি হাঁটুর ব্যথা আর অ্যালার্জির জন্য ওষুধ খেয়েছিলাম।  বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) থেকে আমাদের সব সময় বলা হয় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিছু না খেতে। আমি সেটাই করেছি, গোপনে কিছু খাইনি। আমার কাছে সব প্রেসক্রিপশন আছে।’

মাবিয়ার বলেন, ‘বিওএ-র সেমিনারে প্রেসক্রিপশন রাখার কথা বলা হলেও কোন ওষুধগুলো নিষিদ্ধ তার তালিকা দেওয়া হয়নি। ফলে আমি তো আর জানি না কোন ওষুধ খাওয়া যাবে না। অথচ আজ প্রেসক্রিপশন থাকার পরও আমাকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিওএর প্যাডে চিঠি পাঠানো হয়েছে আমাকে। কিন্তু সেই চিঠির সঙ্গে ওয়াডার কপিটিও দেওয়া হয়নি।’

২০১২ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা মাবিয়ার ঝুলিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক পাঁচটি সোনা। ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে সোনা জিতে তিনি দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। সেই সোনালি ক্যারিয়ারে এখন নিষেধাজ্ঞার কালো দাগ পড়ল। তবে এখনই দমে যাচ্ছেন না তিনি। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাবিয়া।

SN/SKS/JN

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *