চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে শিমুল হোসেন (২০) নামে এক যুবক ও তার দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি (৭৫) নিহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত শিমুল হোসেন ছত্রপাড়া গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে এবং তার দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি একই গ্রামের ইংরেজ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর নেপথ্যে ছিল একই গ্রামের হৃদয় হোসেনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস। শনিবার দুপুরে হৃদয় বাড়িতে ফিরলে আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বিএনপির হান্নান-কুবির গ্রুপ এবং লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় নাতি শিমুলের ওপর হামলার খবর শুনে তার দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি হার্ট অ্যাটাক হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিমুল হোসেনেরও মৃত্যু হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানান, সংঘর্ষের পর ৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল, যার সূত্র ধরে এই মারামারি শুরু হয়। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।