নবাবগঞ্জে জোড়া খুন : একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জ থানাধীন এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোসা. মিনারা বেগম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিনারা বেগম বলেন, রায়ে বিচারক শেখ নাছিরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তাকে দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে আসামি নুর ইসলাম ওরফে নুর হোসেন মোল্লা, সাইফুল আলম শেখ, সুমন শেখ, বাবুল গাজী, শেখ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি, আনোয়ার হোসেন বাবু ও আল আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারের বলা হয়, ২০১৯ সালে ২৩ মে রাত সোয়া ১১টায় ভুক্তভোগী শেখ কালাম ও জাহিদ খান পীর নুরুল ইসলামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে তাদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেন। এ সময় ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন বান্দুরা হতে মাঝির কান্দাগামী পাকা রাস্তার মতব্বতপুরের ডাঙ্গারচরের সামনে পৌঁছালে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে রাস্তায় দুটি কলাগাছ ফেলে রাখে। এ সময় আসামিরা শেখ কালাম ও জাহিদ খানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। গতিরোধের কারণে মোটরসাইকেলের চালক জাহিদ খান তার মাথার হেলমেট দিয়ে আসামিদের এলোপাতাড়ি আঘাত করলে আসামি শেখ নাছির ও সাইফুল তাদের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে জাহিদ ও শেখ কালামকে খুনের উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তাক্ত করে।

এজাহারে আরও বলা হয়,  আসামি সাইফুল, আল আমিন, রিপন, লম্বা বাবুল, কামালসহ অন্যান্যরা শেখ কালামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ডান কাঁধের ওপর এবং ডান হাতের বাহুতে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করে। তারপর শেখ কালামের সঙ্গীয় জাহিদ খানকে আসামিরা লাঠি দিয়ে ডান হাতের কনুইয়ের ওপর জখম করে। এ সময় শেখ কালাম মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়ে কিছু দূর এসে রাস্তায় পড়ে যায়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থালে পৌঁছলে আসামিরা পালিয়ে যায়। এরপরে ভিকটিম জাহিদ খান তার স্ত্রীকে ফোনে ঘটনা জানালে সংবাদ পেয়ে পীর নুরুল ইসলাম মোল্লার ভাই খোকন দ্রুত ঘটনাস্থলে যেয়ে ভিকটিম কালাম ও জাহিদকে আহত অবস্থায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত জাহিদেরও মৃত্যু হয়।

এরপরে পুলিশ বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করে। মামলার পরে আসামি শেখ নাছির, সাইফুল ইসলাম শেখ, আনোয়ার হোসেন বাবুল ও নুর ইসলাম প্রকাশ নুর হোসেন মোল্লা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য এই আদালতে আসে। আদালতে আসার পরে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের পরে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *