তিশার চড় খেয়ে ঝাপসা দেখছেন সামিয়া, মারধরের লিখিত অভিযোগ

সম্প্রতি শুটিং সেটে জুনিয়র সহশিল্পীকে মারধর, গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে ঘিরে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। তার দাবি, শুটিং চলাকালে তিশার চড় খাওয়ার পর থেকেই চোখে ঝাপসা দেখছেন তিনি এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।

গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন সামিয়া অথৈ। বিষয়টি নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু পরিচালিত ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং চলাকালে এই ঘটনার সূত্রপাত। 

সামিয়ার ভাষ্যমতে, তিশার সিনেমায় অভিষেক উপলক্ষে তাকে একটি উপহার দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই উপহার নিতে অনীহা দেখা তিশা এবং শুরু থেকেই তার সঙ্গে অবহেলাসূচক আচরণ করেন।

সামিয়া অভিযোগে বলেন, ‌শুটিংয়ের এক পর্যায়ে তিশা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। বিষয়টি দৃশ্যের প্রয়োজনে ছিল কি না-তা নিয়ে পরিচালকও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পরদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সামিয়া।

তার ভাষ্য, ‘সে সিনের বাইরে গিয়েও আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। আমার গালে জোরে আঘাত করে। আমি প্রতিবাদ করলে চোখ রাঙিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।’

সামিয়া বলেন, বিষয়টি অভিনয় শিল্পী সংঘে জানাবেন বললে তিশা তাচ্ছিল্যের সুরে তাকে বলেন—‘ভাইরাল হতে চাও? যাও জানাও।’

ঘটনার পর অসুস্থ বোধ করায় শুটিং সেট ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসেন সামিয়া অথৈ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলেও জানান তিনি। বর্তমানে চোখে ঝাপসা দেখছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে, ঘটনার দিন ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনাটি ভক্তদের সামনে তুলে ধরেন সামিয়া। এরপর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার চেয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি। 

অভিযোগের শেষে সামিয়া লিখেছেন, একজন শিল্পী হিসেবে যে অপমান সহ্য করেছেন তার সুষ্ঠু বিচার চান, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিল্পী এমন পরিস্থিতির মুখে না পড়েন।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তানজিন তিশা। অভিযোগের বিষয়ে তানজিন তিশা এক অডিও বার্তায় দাবি করেছেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না; বরং গল্প ও দৃশ্যের প্রযোজনে তিনি এমনটা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *