জাবি ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে সেই শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক এক শিক্ষার্থীর সনদপত্র সাময়িক স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সনদপত্র সাময়িক স্থগিত হওয়া এস এম তারিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা এবং সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে জরুরি প্রশাসনিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সাবেক শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলামের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ সব সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর করা মামলার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এর আগে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ওই ভুক্তভোগী আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক এই শিক্ষার্থীর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায়।

পুলিশ বলছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল করে পুলিশের সহযোগিতা চান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

তার বিভাগের একজন শিক্ষক জানান, এক প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে তা ভেঙে যায়।

গত মঙ্গলবার ওই সাবেক ছাত্র ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে কথা বলার জন্য বাসায় যেতে জোরাজুরি করেন। এক পর্যায়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে বাসায় নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তার মুখ টেপ দিয়ে আটকে তাঁকে‌ শারীরিক নির্যাতন ও হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। পরে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে ওই ছাত্র চলে যান। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মিরাজ আকন জানান, ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *