জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করে যাত্রা শুরু করেছে বিএনপি : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে ধোঁকা, প্রতারণা ও গাদ্দারি করে যাত্রা শুরু করেছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও যোদ্ধাদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদরা কোনো দলের সম্পত্তি নয়, কিন্তু তাদের নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজন তৈরি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহার করে সংসদে প্রভাব বিস্তার ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে।

এদিকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে।

বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে দেশে খুনের রাজনীতির সূচনা করেছিল, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো শাসক এভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। মৃত্যুর চাইতেও পালিয়ে যাওয়া বেশি অপমানজনক, যা তাদের কপালে জুটেছে।’

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি এবং গণভোটকে ‘হারাম’ বলেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিএনপি দাবি করে একাত্তর তাদের, নব্বই তাদের, চব্বিশও তাদের। কিন্তু একাত্তরে তো বিএনপির জন্মই হয়নি। জিয়াউর রহমান সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন—আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু একক ক্রেডিট একজনকে দিলে বাকি যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায় থাকে? এটা যুদ্ধকে কুক্ষিগত করার অপপ্রয়াস।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও যোগ করেন, ‘বিএনপি ৩১ দফা সংস্কারের কথা বললেও এখন তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত প্রতিনিধি না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সব জায়গায়—বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে—নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ক্যু’ বা অভ্যুত্থান শুরু করেছে।’

সংসদ অধিবেশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকারি দল (বিএনপি) সংসদ নির্বাচনের ইঞ্জিনিয়ারিং স্বীকার করে নিয়েছে। তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির জোরে জনমতের রায়কে উপেক্ষা করছে। এমনকি জুলাই জাদুঘরকেও তারা দলীয়করণ করতে চায়।’

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তারা গায়ের জোরে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে জুলাই যোদ্ধাদের বসিয়ে আমাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ আমাদের সামনে কোনো কাগজপত্র না রেখেই হাত তুলতে বলা হয়েছে। আমরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দিইনি এবং ঘৃণা নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।’

শহীদদের নিয়ে রাজনীতির নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘শহীদরা কোনো দলের প্রপার্টি নয়, তারা জাতির গর্বিত সম্পদ। অনেকে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা করতে চান, আমরা এর ঘোর বিরোধী।’

ডা. শফিকুর রহমান আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী যোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘তাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। আমরা পরিবারের সদস্য হিসেবে তাদের পাশে ছিলাম এবং থাকব।’

সর্বশেষে জামায়াত আমির দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘মিথ্যার সামনে আমরা মাথানত করব না। প্রয়োজনে হাসতে হাসতে ফাঁসির তক্তার ওপর দাঁড়াব, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না। যতদিন সংসদের ভেতরে লড়াই করতে পারব ততদিন থাকব, নইলে জনগণের কাছে ফিরে যাব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতা এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *