বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন,“অনেক সময় দেখা যায়—এমপি বললেই তার লোকের মামলা নেওয়া হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের বা ক্ষতিগ্রস্তের মামলা পড়ে থাকে। এটা চলবে না। সাধারণ জনগণের মামলা আগে নিতে হবে। এমপি-মন্ত্রী যেই হোক, কাউকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণকে পেছনে ফেলা যাবে না। জনগণই হবে প্রথম অগ্রাধিকার—এটাই আমার স্পষ্ট নির্দেশ।”
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই এটিকে কেবল বক্তব্য নয়, বরং সমতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক দৃঢ় প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন।
বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সালিশ-বিচারে তরুণদের সম্পৃক্ততা নিরুৎসাহিত করা উচিত। এ ধরনের দায়িত্ব এলাকার অভিজ্ঞ মুরুব্বিদের ওপরই ন্যস্ত থাকা প্রয়োজন।
অতীতের বিরোধ-সংঘাত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,“আমরা চাই মানুষ বুঝুক—একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনের নাম জাতীয়তাবাদী দল। যে দল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, মানুষের নিরাপত্তা দেবে, ব্যবসায়ীদের নিশ্চিন্তে ব্যবসা করার পরিবেশ তৈরি করবে। তাহলেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে একটি সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আগামী পাঁচ বছরে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এবং এমন কাজ করতে হবে যাতে জনগণ নিজেরাই আমাদের দলকে বেছে নেয়। জনগণের কোনো কষ্ট যেন না হয়, কোনো অভিযোগ যেন না থাকে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি—শতভাগ না হলেও অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ পূরণ করতে হবে। এটাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।”
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় নারী-পুরুষ অংশ নেন। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও উচ্ছ্বাস। উপস্থিত অনেকেই বলেন, জনগণকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার এই বার্তা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।