কুমারখালীতে আগুনে পুড়ল ব্যবসায়ীর স্বপ্ন!

‘বিশ বছর আগে মাত্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তিলে তিলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পদ হয়েছিল। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’ আজ শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে এভাবেই বুক ফাটা আর্তনাদ করছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নিঃস্ব ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা (৫০)।

উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারে আজ রাত ৩টার দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গোলাম মোস্তফার ইলেকট্রনিক্সের দোকান ‘আব্দুস সাত্তার ইলেকট্রনিক্স’ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং পাশের সার-কীটনাশকের দোকান মেসার্স শেখ এন্টারপ্রাইজের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, রাত ৩টার দিকে বাজারের নৈশপ্রহরীর ফোনে খবর পেয়ে গোলাম মোস্তফা দোকানে ছুটে আসেন। দোকানের একটি শাটার খুলতেই ভেতরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানেও। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান শেখ জানান, তার দোকানে থাকা বীজ, সার, কীটনাশক ও সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। অন্যদিকে, গোলাম মোস্তফার দাবি, তার দোকানের লিথিয়াম ব্যাটারি বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বাজার কমিটির সদস্য তৈয়বুর রহমানের মতে, আগুনে দুই ব্যবসায়ীর প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ফায়ার সার্ভিস খবর পাওয়ার পর আসতে দেরি করায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। তবে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাইদ ইকবাল এই দাবি অস্বীকার করে জানান, ৯৯৯-এ সংবাদ পাওয়ার ১২ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা লিখিত আবেদন করলে সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *