উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের গুরুতর অভিযোগ, সিইসির হস্তক্ষেপ কামনা

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, সকালেই শিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটি দুটি আসনের প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এবং ব্যাপক অনিয়ম যেসব জায়গায় হয়েছে, সেখানে ভোট গ্রহণ স্থগিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বগুড়া এবং শেরপুরের দুটি আসনের উপ-নির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, সকালেই শিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়ার মতো অনেক আপত্তিকর ঘটনা ঘটেছে। এখনো নির্বাচন চলছে। এর মধ্যে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া কিছু অনিয়মের বিষয় জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, তিনি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শাহাবুদ্দিন বিগত ৪ থেকে ৬ এপ্রিল তিনদিন দুটি আসন সফর করেছেন। সেখানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

প্রশাসনকে অনুরোধ করার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনকে আপনারা নিরপেক্ষ করবেন। এটাকে আরেকটা মাগুরা নির্বাচন বানাবেন না। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অনেক কথা আমরা আগে শুনেছি। এখন নির্বাচিত সরকারের অধীনে এই নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ হয়। কিন্তু ওখানেই আমরা শুনে আসছিলাম, ভয়-ভীতি, কেন্দ্রে যেতে না দেওয়া, এজেন্টদের ওপর হুমকি দেওয়া বহু কিছু তখনই চলছিল। আমরা যে কয়দিন সফর করলাম, আজকে সকাল থেকে ঠিকই দেখলাম সেই ধারণা সত্য ঘটেছে।

প্রিজাইডিং অফিসাররা সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বগুড়া-৬ আসনের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনটি করা হয়েছে। এটা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে ফলাফল তৈরি হলে তখন ফলাফল শিটে সব প্রার্থীর এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন।

অন্তত ১৩টি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া ও জামায়াত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রীবরদী পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল মোহাম্মদ দুলাল এবং আহ্বায়ক অপুর নেতৃত্বে ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ঢুকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ওই উপজেলা জামায়াতের যুব কমিটির সভাপতি আমির হামজাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আগে থেকেই জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে পেটোয়া বাহিনী কেন্দ্রে কেন্দ্রে হামলা করছে, মহিলাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে, তাদের অপমানিত-লাঞ্ছিত করছে। এতে মনে হয়, প্রশাসন অসহায়। কোনো এক জায়গা থেকে নির্দেশিত হয়ে তারা এখন ঠান্ডা, তাদের যেন কিছু করার নেই।

বিএনপি সরকারের অধীনে প্রথম দুটি উপ-নির্বাচনের চিত্র এমন হলে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আরও যেসব নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে কী করে ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আশা করা যায়—এমন প্রশ্ন রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিমউদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *