হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী তৃতীয় ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড কম্পিউটেশন (আইসিএমএসসি-২৬) শুরু হয়েছে। আজ রোববার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সের আয়োজনে এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়।
আজ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম-২-এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব দুসেলদর্ফের অধ্যাপক ড. ক্রিস্টোফ জানিয়াক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির।
কনফারেন্সের কো-কনভেনর ও হাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বলরাম রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মমিনুল ইসলাম, কনফারেন্স আয়োজক কমিটির সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন এবং কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে গবেষণার পরিধি ও গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটেশনাল ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন শাখার সমন্বয়ে আধুনিক গবেষণা এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বর্তমানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ, নতুন উপকরণ উদ্ভাবন এবং গবেষণার গতি বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।’
অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা আরও উল্লেখ করেন, কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রিতে অবদানের জন্য ইতোমধ্যে তিনজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, যা এ ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গুরুত্বকে সুদৃঢ় করেছে। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশে এক্সপেরিমেন্টাল পদ্ধতির পাশাপাশি কম্পিউটেশনাল বিশ্লেষণের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার অধ্যাপক ড. ক্রিস্টোফ জানিয়াক এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের সম্মেলন গবেষণা সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণ করছেন।