দেশের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সরকারি প্রস্তাবনার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে হঠাৎ করে অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া অযৌক্তিক।
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও প্রযুক্তিগত সুবিধা, মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় ডিভাইসের নাগাল পায় না। এমন বাস্তবতায় অনলাইন ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হলে সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তানরা মারাত্মকভাবে বৈষম্যের শিকার হবে এবং অনেকে শিক্ষাঙ্গন থেকে ছিটকে পড়বে। এর পূর্বে করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যা এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
মহিলা জামায়াত সেক্রেটারি আরও বলেন, শিল্প কারখানা যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বন্ধ রাখা যায় না, তেমনি অনলাইনে ক্লাস বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায় হতে পারে না বরং জ্বালানী সাশ্রয়ে এ খাতে দুর্নীতি লুটপাট অপচয় বন্ধের ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সরাসরি যোগাযোগ এবং সহপাঠীদের সঙ্গে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা অনলাইনের মাধ্যমে পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাখাত বর্তমানে সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে রয়েছে। এ সময়ে প্রয়োজন শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাসে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ। এর পরিবর্তে অনলাইন ক্লাসকে প্রধান বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানো কোনোভাবেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
তিনি আশা করেন সরকার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থ বিবেচনায় রাখবেন । তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান—শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।