সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের ৩০টি গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রায় ১৫০ বছর ধরে রোজা রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছে। এ বছরও এক দিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সুরেশ্বর দরবার শরিফ কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফের গদিনসীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুরেশ্বর দরবার শরিফ সূত্রে জানা যায়, জান শরিফ শাহ সুরেশ্বরী নামে এক সুফি সাধকের প্রতিষ্ঠিত সুরেশ্বর পাক দরবার শরিফের কয়েক লাখ ভক্ত ও অনুরাগী রয়েছে সারা দেশে। এই দরবার শরিফের এসব ভক্ত ও অনুরাগীরা ১৯২৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের এক দিন আগেই রোজা ও ঈদ পালন করে। এর মধ্যে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধ, চণ্ডীপুরসহ ৩০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আগামীকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করবেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সুরেশ্বর দরবার শরিফে একই সময়ে পৃথক মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য প্রথম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করবেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা মো. জুলহাস উদ্দিন।
সুরেশ্বর দরবার শরিফের ভক্ত মনসুর মৃধা বলেন, আমার বাবাও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করতেন। আমরা বংশ পরম্পরায় এভাবেই ধর্ম পালন করে আসছি। ইনশাআল্লাহ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে পায়েস খাব।
সুরেশ্বর দরবার শরিফের গদিনসীন পীর শাহ মুজাদ্দেদী সৈয়দ বেলাল নূরী বলেন, শুক্রবার সুরেশ্বর দরবার শরিফে ঈদুল ফিতরের দুটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীতে চাঁদ একটাই। সুতরাং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা তারাবি, রোজা ও ঈদ পালন করি। এ বছরও সুরেশ্বর দরবার শরিফের পৃথক স্থানে একই সময়ে ঈদুল ফিতরের দুটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। সুরেশ্বরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মুসল্লি আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। সবাইকে সুরেশ্বর দরবার শরিফের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।