সীমান্তে গোলাগুলির কড়া জবাব দিল পাকিস্তান

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার তোরখাম ও তিরাহ উপখাতে আফগান তালেবান বাহিনীর উসকানিমূলক গুলিবর্ষণের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী কঠোর পাল্টা জবাব দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর জিও নিউজের।  ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পাল্টা ব্যবস্থা

মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের দিক থেকে থেকে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ শুরু হলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখায়, যার ফলে আফগান পক্ষের গোলাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের উস্কানির কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে। পাকিস্তান তার নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।’

সন্ত্রাসবাদ ও প্রতিশোধমূলক হামলা

সাম্প্রতিক এই উত্তজনা মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে (ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নু) আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করে আসছে, এসব হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীরা আফগান ভূমি ব্যবহার করছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে সাতটি সন্ত্রাসী আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমান হামলা চালিয়ে ৮০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে খতম করেছে।

চুক্তি ভঙ্গ ও কূটনৈতিক স্থবিরতা

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো যাবে না। তবে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পরবর্তী আলোচনাগুলোতে আফগান পক্ষের একগুঁয়েমির কারণে কোনো সুফল আসেনি। উল্টো আফগান বাহিনী সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানে অনুপ্রবেশে সহায়তা করতে সীমান্তে নিয়মিত গুলিবর্ষণ করছে বলে ইসলামাবাদের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান প্রশাসন যদি তাদের ভূমি থেকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে এই সীমান্ত সংঘাত আরও বড় আকারের সামরিক উত্তজনার দিকে মোড় নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *