সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে

মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

এর আগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হানুর রহমান সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

আদালতের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তকালে এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চৌকস টিম তার অবস্থান নির্ণয় করে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে মামলার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে আড়াল করে মামলার বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। এমতাবস্থায় মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ করা ও চাঁদার টাকা উদ্ধার, মূল অপরাধী চক্র শনাক্তসহ অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। এজন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

এর আগে, গতকাল সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওই বছরে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ২০০৮ সালের জুনে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার করে পাঠানো হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে।

২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন তিনি। তার পাঁচ দিনের মাথায় তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কেনেন। এর পরদিনই জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন এক-এগারোর সময় আলোচিত সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *