আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব নিয়েছিলেন অপার সম্ভাবনা নিয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান হিসেবে আইসিসিতে কর্মরত একজন এসেছেন, যিনি কি না সাবেক ক্রিকেটার—বুলবুলকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ ছিল অনেক উঁচুতে। কিন্তু, অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। এতটাই যে, শোনা যাচ্ছে ভাঙনের সুর।
বুলবুলের কমিটি থেকে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন সাতজন পরিচালক। ২৫ জনের বোর্ডে সাতজনই নেই। গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তদন্ত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) এনএসসির সেই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে বোর্ডের ভবিষ্যৎ।
সবকিছু মিলিয়ে চাপে আছেন বুলবুল। চাপের মাঝেও সভাপতির চেয়ারে থাকার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুসারে বুলবুল বলেন, ‘আমার চেয়ারে আমি বসব। এর বাইরে কী করার আছে? আমার একটা দারুণ উদ্যমী ও সৎ দল আছে বিসিবিতে। এই দলের সঙ্গে আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সেবা দিতে চাই।’
কাজটা কঠিন, জানেন বুলবুলও। যেভাবে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে, কখন কে নতুন করে দায়িত্ব ছাড়েন, জানা নেই কারও। পরিস্থিতি বুঝেছেন বুলবুলও। ‘আমি দেশকে সাহায্য করার জন্য সবকিছু ছেড়েছি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি থাকব।’—যোগ করেন তিনি।
আইসিসিতে কাজ করা একমাত্র বাংলাদেশি তিনি, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন বুলবুল। তবে, নিজেকে অপরিহার্য ভাবছেন না জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘কেউই অপরিহার্য না। আইসিসিতে কাজ করা একমাত্র বাংলাদেশি আমি। এর মানে এই নয়, বিশাল কিছু হয়ে গেছি। কিন্তু, এখানে অভিজ্ঞতার কারণেই বসেছি। দেশকে সমর্থন দিতে সব ছাড়লাম। এটি আমার না হলে, অন্য পথ দেখব।’