শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি নিষিদ্ধ, অনিয়মে ব্যবস্থা

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক অনিয়ম রোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই তাদের পুরনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় করতে পারবে না।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত নতুন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ জারি করেছে।

নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার সময় কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলোর ক্ষেত্রে ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি গ্রহণ করতে হবে। এর বাইরে নতুন কোনো খাত তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের যৌথ সইয়ে পরিচালিত হবে। ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংককে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ফি, অনুদান ও অন্য আয় ব্যাংক হিসাব, সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে বা সরকারি ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে। সেক্ষেত্রে সংগৃহীত অর্থ দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান যৌথভাবে দায়ি থাকবেন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া আয়-ব্যয়ের কোনো খাতে পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়।

পিডিকে/এসএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *