রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে এলাকার একটি শপিংমলে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। শপিংমলের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকেরা।
তবে পুলিশ বলেছে, সংবাদটি পুরোপুরি গুজব ছিল। কোনো রিকশাচালক নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, উত্তরায় স্কয়ার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে রিকশা দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকদের মধ্যে গতকাল রাতে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, নিরাপত্তাকর্মী এক রিকশাচালকে কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সরে গিয়ে পার্কিং করতে বলে। তারপরই ঘটনাটি ঘটে। চারদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে রিকশাচালক মারা গেছেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিকশাচালকের মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে বলেন, ওটা সম্পূর্ণ গুজব ছিল। যে রিকশাচালকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল সে কিছু সময় পরে ওই স্থান থেকে চলে যায়। আমরা সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে তাই দেখেছি।
এর আগে গতকাল রাত ১১টার দিবে উত্তরা–১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ উত্তেজনা আজ সোমবার সকালেও দেখা যায়। রিকশাচালকেরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে ওই শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের বাগবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপান্তরিত হয়। পরে রিকশাচালক মারা গেছেন এবং তার মরদেহ ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত রিকশাচলক ও স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরে নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।